এম, এ খালেক সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি.
শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততার মাঝে আমরা যখন একে অপরের প্রতি বিশ্বাস হারাতে বসেছি, ঠিক তখনই সততার এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার সাধারণ রিকশাচালক টুন্নু মিয়া। তার জীর্ণ রিকশার চাকায় হয়তো দারিদ্র্যের ছাপ আছে, কিন্তু তার মনে যে ঋজু সততা রয়েছে, তা আজ পুরো শহরবাসীর প্রশংসা কুড়াচ্ছে।সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বাজার এলাকায় রিকশা চালিয়েই দিন পার করেন টুন্নু মিয়া। তার রিকশার যাত্রী রাজন খানকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে টুন্নু মিয়া যখন পরবর্তী যাত্রীর অপেক্ষায়, তখনই তার নজরে আসে সিটের এক কোণে পড়ে থাকা একটি মানিব্যাগ।রাজন খান অসাবধানতাবশত তার মানিব্যাগটি রিকশাতেই ফেলে গিয়েছিলেন। সেখানে ছিল নগদ টাকা আর তার চেয়েও মূল্যবান কিছু জরুরি কাগজপত্র, যার মধ্যে ছিল তার ড্রাইভিং লাইসেন্স। বর্তমান সময়ে এমন কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদ হাতছাড়া করা অনেকের জন্যই সহজ ছিল, কিন্তু টুন্নু মিয়ার কাছে নিজের সততাই ছিল বড় সম্পদ। তিনি কালক্ষেপণ না করে মানিব্যাগটি সযত্নে রেখে দেন এবং প্রকৃত মালিকের সন্ধানে তৎপর হন।
সামাজিক মাধ্যমে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দ্রুতই মালিকের সন্ধান মেলে। হারিয়ে যাওয়া জিনিসের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন রাজন খান। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারলেন একজন রিকশাচালক তার আমানত আগলে বসে আছেন, তখন তিনি অভিভূত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সঠিক যাচাই-বাছাই শেষে টুন্নু মিয়া নিজ হাতে মানিব্যাগ ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ সব কাগজপত্র রাজন খানের ভাইয়ের হাতে তুলে দেন।সামান্য আয়ের একজন মানুষের এই অসামান্য সততা আজ সৈয়দপুরজুড়ে আলোচনার বিষয়। টুন্নু মিয়া প্রমাণ করে দিলেন—মানুষের পরিচয় তার পেশায় নয়, বরং তার কাজ ও চারিত্রিক দৃঢ়তায়। অভাবের সংসার হলেও লোভকে জয় করে তিনি যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা আমাদের সমাজের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।সত্যিই, টুন্নু মিয়াদের মতো মানুষেরা আছেন বলেই পৃথিবীটা আজও এতো সুন্দর।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply